স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের লোক ঐতিহ্য ও চিরচেনা রূপের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে গৌরবময় ‘খেজুর রস ও গুড়’। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবহেলার কারণে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অভিনব ও প্রশংসনীয় সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী সৃজনশীল সংগঠন ‘বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ’ (বিএসপি)। সংগঠনের নিজস্ব সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলাজুড়ে একযোগে ‘এক লাখ খেজুরের বীজ রোপণ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বিখ্যাত বিল হরিণার প্রধান সড়কে (যশোর মেডিকেল কলেজের ঠিক পেছনে) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিশাল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএসপির আজীবন সম্মানিত সদস্য এস এম আলমগীর কাইয়ুম।
বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের (বিএসপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট কবি আহমদ রাজু’র সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বীজ রোপণ উৎসব ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক বকুল হক, কবি এম এন এস তুর্কি, কবি এম এ কাসেম অমিয় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি গোবিন্দ চন্দ্র হালদার। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকার ও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করেন বিএসপির বর্তমান সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না।
খেজুরের বীজ বপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত থেকে সরাসরি বীজ রোপণে অংশ নেন সংগঠনের সাবেক সফল সভাপতি এডিএম রতন, ভদ্রাবতী বিশ্বাস, অরুণ বর্মন, সঞ্জয় নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, কামরুল আহসান, শরিফুল আলম, আমিনুর রহমান ও সাকিব হোসেনসহ বিএসপির জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও পরিবেশবাদী কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “যশোরের নাম বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মায়াবী খেজুরে মাঠ ও গাছিদের রস সংগ্রহের দৃশ্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে খেজুর গাছ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে, যা আমাদের পরিবেশ ও ঐতিহ্যের জন্য এক বড় হুমকি। বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ কেবল সাহিত্য চর্চায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে এক লাখ খেজুরের বীজ রোপণের যে সাহসী ও দূরদর্শী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা সত্যি অনন্য ও অনুকরণীয়।” এই ১ লাখ খেজুরের চারা বড় হয়ে আগামী দিনে যশোরের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পরিবেশবিদেরা। আজ উদ্বোধনের পর থেকে পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, বেড়িবাঁধ ও পতিত জমিতে এই বীজ রোপণ কার্যক্রম মাসব্যাপী অব্যাহত থাকবে বলে বিএসপি নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেছেন। ছবি সংগৃহীত।


