শহিদ জয় :
যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী ও জনাকীর্ণ বড় বাজার ফেন্সি মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে মার্কেটের কসমেটিকস, সিটি গোল্ডের স্বর্ণালংকার এবং সুতা-বর্শির তিনটি বড় দোকান ও ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) সকাল পৌনে ৮টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনে প্রাথমিকভাবে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার সকালে বড় বাজার ফেন্সি মার্কেটের ভেতরের একটি কসমেটিকসের দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী আরও দুটি দোকানে দ্রুত গ্রাস করে নেয়। এতে কসমেটিকস ব্যবসায়ী শামীম হোসেন, সিটি গোল্ডের মালিক পারভেজ শেখ এবং সুতা-বর্শির পাইকারি ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলামের দোকান এবং দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল, আসবাবপত্র ও ক্যাশ টাকা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। সাতসকালে আগুন লাগার কারণে আশপাশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত মালামাল সরানোরও সুযোগ পাননি।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের চারটি বিশেষ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ফায়ার ফাইটাররা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উৎসুক জনতার সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার অবিরাম ও যৌথ চেষ্টায় সকাল পৌনে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফেন্সি মার্কেটের মতো একটি ঘিঞ্জি ও সংকীর্ণ স্থানে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। যথাসময়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক থেকে পানি ছিটানো শুরু না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যেত এবং পুরো মার্কেট পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক আর্থিক পরিমাণ নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ বলেন, “আগুনের খবর পেয়েই আমরা ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিই, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা চুরির ঘটনা না ঘটে। বর্তমানে ফেন্সি মার্কেটের পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে তদন্ত করে দেখছে।” সাতসকালের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বড় বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মাঝে গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি সংগৃহীত।

