স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঢাকার টঙ্গী এলাকা থেকে বন্ধুদের সাথে যশোর ও বেনাপোল সীমান্তে বেড়াতে এসে ২৮ বছর বয়সী এক গৃহবধূ দলবদ্ধ ধর্ষণ (গণধর্ষণ) ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে যশোর ও বেনাপোলের মধ্যবর্তী কোনো একটি অজ্ঞাত স্থানে এই লোমহর্ষক অপরাধটি সংঘটিত হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে আজ রোববার (৫ জুলাই) যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মূল অভিযুক্ত বন্ধু আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে নির্যাতিতা ওই নারী শারীরিক অসুস্থতার কারণে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার টঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূর সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল কালাম আজাদের পারিবারিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। গত ৪ জুলাই রাতে বন্ধু আবুল কালাম আজাদের আমন্ত্রণে এবং তার সাথে আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা যুবকের একটি দলের সাথে যশোর ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত দেখার উদ্দেশ্যে বেড়াতে আসেন ওই গৃহবধূ। ভ্রমণ শেষে গভীর রাতে ফেরার পথে আনুমানিক রাত ৩টার দিকে একটি নির্জন ও অজ্ঞাত স্থানে গাড়ি থামিয়ে আসামিরা ওই নারীর ওপর চড়াও হয়। এ সময় তার মুখ ও হাত চেপে ধরে বন্ধু আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, পাশবিক এই নির্যাতনের পর আসামিরা ভুক্তভোগীর কাছে থাকা দামী ‘আইফোন ১১’ মডেলের একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং মানিব্যাগে থাকা নগদ ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
পরবর্তীতে মারাত্মক জখম ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ওই নারী কোনোমতে যশোর শহরে পৌঁছান এবং লোকলজ্জা ও সামাজিক ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সোজা যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে হাজির হন। ডিউটি অফিসারের কাছে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দেওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেয় এবং উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষার জন্য তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে, টঙ্গী থেকে বেড়াতে এসে দূরপাল্লার এক নারী পর্যটকের এমন নির্মম লাঞ্ছনার খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোরের স্থানীয় বিভিন্ন মহিলা সামাজিক সংগঠন ও সচেতন এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বের সাথে নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার মূল হোতা আবুল কালাম আজাদসহ এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত ও তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কয়েকটি বিশেষ টিম একযোগে কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।” প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।

