স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, পুলিশের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে চরম অসদাচরণের অকাট্য ও গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যশোর নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদকে তাঁর সাংগঠনিক পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। যশোর জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের নেওয়া এক জরুরি ও কঠোর সিদ্ধান্তের পর গতকাল ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শুক্রবার জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরান স্বাক্ষরিত এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদীয়মান সদস্য হামিদুর রহমান রাজীবের নাম রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ভাবে জড়ানো হলেও, গভীর তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে বলে স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র শতভাগ নিশ্চিত করেছে।
যশোর জেলা ছাত্রদলের দলীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল তাদের নিয়মিত টহল ও দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদ পুলিশের কাজে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথে চরম অশোভন আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু সমাজবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উত্থাপিত হয়, যা ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠনের ভাবমূর্তি জনগণের সামনে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।
এই ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ১০ জুন জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরান স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে সুমন আহমেদকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—তা জানতে চেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরানের কাছে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সুমনের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির দফায় দফায় নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও স্পট ইনভেস্টিগেশনে সুমনের বিরুদ্ধে আনা পুলিশের কাজে বাধা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সবকটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার তাকে পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জেলা ছাত্রদল।
এদিকে, ৯ জুনের ওই একই অপ্রীতিকর ঘটনার সময় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সুমনের সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন—এমন এক অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সক্রিয় সদস্য হামিদুর রহমান রাজীবকে। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জোর দিয়ে জানিয়েছে, দলীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তে রাজীবের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া বা অসদাচরণ করার বিন্দুমাত্র কোনো প্রমাণ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, রাজীবের দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক জীবনে এর আগে কোনো ধরনের অপরাধ বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের দাগ লাগেনি।
সূত্রগুলো আরও স্পষ্ট করে জানায়, ঘটনার দিন রাজীব ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণভাবেই হেঁটে যাচ্ছিলেন। বারান্দীপাড়া এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রদল নেতার মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখে একজন পথচারী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি কৌতূহলবশত সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে তিনি কোনো পক্ষের হয়ে কোনো ধরনের অশোভন আচরণ, হস্তক্ষেপ কিংবা পক্ষপাতমূলক কোনো ভূমিকা পালন করেননি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মহল তাঁর নিষ্কলঙ্ক রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই অপপ্রচার চালিয়েছিল যা তদন্তে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যুব ও ছাত্রদলের এই সাংগঠনিক অ্যাকশনের পর যশোর শহরের বারান্দীপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

