স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় মাদকের একটি বড় চালান ধরেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়, যশোরের কর্মকর্তারা। যশোর টু নড়াইল মহাসড়কে ফিল্মি কায়দায় একটি প্রাইভেট কারের বডি ও ড্যাশবোর্ড কেটে তৈরি করা বিশেষ বক্স থেকে সর্বমোট ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার এবং পাচারে ব্যবহৃত টয়োটা ব্যান্ডের প্রাইভেট কার ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ০৯:৪৫ ঘটিকায় যশোর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকায় এই কড়া অভিযানটি পরিচালিত হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিরা হলো—মোঃ বাবলুর রহমান (৫৫), পিতা: মৃত নওশের আলী মোড়ল, মাতা: মৃত রানু বেগম, সাং- দৌলতপুর মধ্যপাড়া (৩১ নম্বর ওয়ার্ড), থানা: বেনাপোল পোর্ট, জেলা: যশোর, মোঃ নুরুজ্জামান (৩৪), পিতা: মোঃ আজগার আলী, মাতা: মোছাঃ নারগিস বেগম, সাং- বড় আঁচড়া মাঠপাড়া, থানা: বেনাপোল পোর্ট, জেলা: যশোর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, শনিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান প্রাইভেট কারযোগে নড়াইল ও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি’র একটি চৌকস দল কোতোয়ালি মডেল থানাধীন হামিদপুর এলাকাস্থ ‘যশোর পৌরসভা ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট (জেপিডব্লিউটিপি)’ গেটের উত্তর পার্শ্বে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ওপর ওত পেতে থাকে।
নির্দিষ্ট সময়ে সন্দেহভাজন একটি ধূসর রঙের টয়োটা ব্যান্ডের ‘X COROLLA’ মডেলের প্রাইভেট কারকে সংকেত দিয়ে থামানো হয়। প্রাথমিকভাবে গাড়ি তল্লাশি করে কিছু না পাওয়ায় কর্মকর্তারা সূক্ষ্ম পরীক্ষা শুরু করেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, গাড়ির সামনের ড্যাশবোর্ডের ভেতরে এবং দুই পার্শ্বের রানিং বোর্ডের লোহা কেটে চোরাকারবারিরা বিশেষ মেটাল বক্স তৈরি করেছে। সেই গোপন বক্সগুলো ভেঙে একে একে বের করা হয় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, যশোরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জনাব মদন মোহন সাহা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
ডিএনসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এই চক্রের পেছনে থাকা গডফাদারদের এবং বেনাপোল ও নড়াইল রুটের মূল সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ ঝটিকা অভিযান জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


