ঝিকরগাছার চিহ্নিত সন্ত্রাসী কালাম এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে!

ঝিকরগাছার চিহ্নিত সন্ত্রাসী কালাম এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে!

.স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়ে আসা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও গ্যাং লিডার আবুল কালাম এখনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় থানা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যদের সাথে সুগভীর সখ্যতা ও আঁতাতের কারণে তিনি বারবার গ্রেফতার এড়িয়ে বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি পুলিশের বিশেষ অভিযানের আগাম গোপন তথ্যও কালামের কাছে আগেই পৌঁছে যায় বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। অভিযুক্ত আবুল কালাম ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।

আঞ্চলিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গণরোষের ভয়ে চিহ্নিত এই সন্ত্রাসী কিছুদিন সম্পূর্ণ আত্মগোপনে ছিলেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে আসতেই কালাম আবার এলাকায় ফিরে এসে নতুন করে নিজের বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী ও অপরাধের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নাভারণ ও রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, নিয়মিত প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখালে তাকে বা তাঁর পরিবারকে মারাত্মক প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশ তাঁর আস্তানায় অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও রহস্যজনকভাবে কালাম আগেভাগেই সটকে পড়েন, যা পুলিশের সাথে তাঁর আঁতাতের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

এদিকে, এই চিহ্নিত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে না পারার বিষয়ে এক ধরনের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই তদন্ত) রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা অবলীলায় স্বীকার করে জানান, “আবুল কালামের বিরুদ্ধে এলাকায় অপরাধের অনেক সুনির্দিষ্ট গুঞ্জন ও তথ্য রয়েছে। তবে কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতার সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় ও প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে গ্রেফতার করা আমাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।” তবে অপরাধ দমনে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আপস করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া সন্ত্রাসী কালামের বিষয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “অপরাধী বা সন্ত্রাসীর কোনো নির্দিষ্ট দল বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আবুল কালামের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ থানায় এসে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করলেই আমরা তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ঢাল ভেঙে অত্যন্ত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী আবুল কালামকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য যশোরের পুলিশ সুপারের (এসপি) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ঝিকরগাছার সাধারণ মানুষ। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *