ঘুষ বাণিজ্যে শীর্ষে খুলনা বিভাগ

ঘুষ বাণিজ্যে শীর্ষে খুলনা বিভাগ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

দেশের সরকারি ও বেসরকারি সেবা খাতে বিভাগভেদে দুর্নীতিতে ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ঘুষ লেনদেনের দিক থেকে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এর চূড়ান্ত তথ্য ও প্রতিবেদন তুলে ধরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয়ভাবে দেশের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন এবং ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সরাসরি ঘুষের শিকার হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেখানে ঘুষের শিকার হয়েছেন ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতা। অন্যদিকে, খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি ঘুষের শিকার হয়েছেন এবং এই বিভাগে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৮৮ শতাংশ মানুষ।

জরিপের অন্যান্য বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ; রংপুর বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ; ঢাকা বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৮০ দশমিক ১ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ; সিলেট বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিভাগের মানুষ, যেখানে দুর্নীতির হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ঘুষের হার ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (আইএসআরটি) প্রাক্তন অধ্যাপক সেকেন্দার হায়াত খান, প্রাক্তন অধ্যাপক পিকে মো. মতিউর রহমান, প্রাক্তন অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়ায়েব, অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক। সেবা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে টিআইবি’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *