আট মাস হোটেলে রাতভর ‘মৌজ-মাস্তি’ এনসিপি নেতাদের!

আট মাস হোটেলে রাতভর ‘মৌজ-মাস্তি’ এনসিপি নেতাদের!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানীর এক অভিজাত আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধরে অবাধ নারী যাতায়াতসহ নানা ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। হোটেলের দুটি রুমে রাতভর ‘মৌজ মাস্তিতে’ দলটির আরো কয়েক ডজন নেতা অংশ নিতেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ৮ মাসের প্রায় ১২ লাখ টাকা হোটেল ভাড়া পরিশোধ না করেই নির্বাচনের পরদিন তারা সুকৌশলে পালিয়ে যান।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ‘ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে এই বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এনসিপি নেতারা হলেন— ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা, যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে হোটেলটিতে অবস্থান নেন। পরে তারা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাস হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন। প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ৩ হাজার টাকা হিসেবে দুই কক্ষের মোট ভাড়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় তারা মাত্র ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাকি অর্থ আর পরিশোধ করেননি।

অভিযোগের তীর যার দিকে সবচেয়ে বেশি, সেই ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার তীব্র অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ এমপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এবং তার বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের যাত্রাবাড়ী এলাকার এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে চতুরতার সাথে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন।

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতারা হোটেলে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। এখানে তারা আসত, রাতভর আড্ডা দিত এবং প্রায়ই বহিরাগত নারীদের নিয়ে আসত। আমরা যখন বলেছি যে আমাদের হোটেলে নারী এলাউড না, তখন তারা রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বলতেন— ‘আপনাদের কাজ আপনারা করেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।’ বকেয়া ভাড়া চাইলে তারা শুধু ঘুরাইত। এরপর নির্বাচনের ঠিক পর দিন দেখি তারা রুম তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। পরে আমরা তালা ভেঙে রুম ক্লিন করি। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনসিপির আহ্বায়কের কাছে সিসিটিভি ফুটেজসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। টাকা না দিলে আমরা মামলা ও সংবাদ সম্মেলন করব।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “হোটেলের রুম ভাড়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে থাকার প্রশ্নই আসে না। ছাত্রলীগের মারধরের যে ভিডিওর কথা বলা হয় তা ২০২৩ সালের।” অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা ও নেতা শাখাওয়াত হোসেন ওই হোটেলে থাকার কথা স্বীকার করলেও বকেয়া ভাড়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যান। আর মিরাসাত হোসেন হিমেল সেখানে যাওয়ার কথাই মনে করতে পারেননি।

দলীয় নেতাদের এমন নৈতিক স্খলন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই বিষয়ে যেহেতু একটি লিখিত অভিযোগ আমাদের দপ্তরে এসেছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে। শৃঙ্খলা কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরপরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।  সূত্র – কালের কন্ঠ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *