স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
একাধিক ফৌজদারি ও রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি কারাগারে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার (২৯ জুন) ভোরের দিকে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গতকাল রোববার (২৮ জুন) রাত দেড়টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ডা. দীপু মনি বুকের ভেতর তীব্র অস্বস্তি ও শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কারা প্রশাসন তাকে কারাগার থেকে বের করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন মনে করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জরুরিভিত্তিতে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের সেই পরামর্শ মেনে আজ ভোরেই তাকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, “সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি রোগ, থাইরয়েড এবং বিভিন্ন জটিল অ্যালার্জিজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বা আশঙ্কামুক্ত নয়—এমনটি বলা যাবে না। উন্নত পরীক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্যই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “ডা. দীপু মনি আগে থেকেই বিভিন্ন ক্রনিক ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। রাতে আকস্মিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় আমরা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি নিয়ম মেনে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন শেষে চিকিৎসকদের ছাড়পত্র সাপেক্ষে তাকে আবার পূর্বের ন্যায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ডা. দীপু মনি দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা ও রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। সেই সব মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে তিনি দেশের কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ছবি সংগৃহীত।

