বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্র ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটাকে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং পরিকল্পিত প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার দাবিতে উপকূলীয় অঞ্চলে তিন দিনব্যাপী এক বিশাল গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং আগত পর্যটকসহ অন্তত ১০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে ‘কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরাম’-এর ব্যানারে কুয়াকাটা চৌরাস্তা চত্বরে এই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়, যা আগামী বুধবার পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলমান থাকবে।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে কুয়াকাটার সামাজিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একযোগে অংশ নেন। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী,হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ফোরামের মহাসচিব এম এ মোতালেব শরীফ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব মতিউর রহমান,পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল, কলাপাড়া উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান,কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব ও আনোয়ার হোসেন আনু,প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির এবং টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী সাঈদ প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা পার্শ্ববর্তী মৎস্য বন্দর মহিপুরকে উপজেলা করার দাবির তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, “কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে এটিকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়েছে। এখানে তিন শতাধিক অত্যাধুনিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া আধুনিক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার জাতীয় অবকাঠামো রয়েছে। বিনিয়োগকারীরাও এখানে বড় বিনিয়োগ করেছেন। তাই এই পর্যটন শিল্পের যথাযথ সুরক্ষায় কুয়াকাটাকেই কেন্দ্র করে পরিকল্পিত প্রশাসনিক উপজেলা গঠন এখন সময়ের দাবি।”
ফোরামের মহাসচিব এম এ মোতালেব শরীফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় মহিপুর পুলিশ ফাঁড়িকে থানায় রূপান্তর করা হয়েছিল, যা পর্যটনে বিনিয়োগকারী ও স্থানীয়দের চরম হতাশ করেছে। কুয়াকাটার পর্যটনকে বাঁচাতে হলে উপজেলা কুয়াকাটাতেই হতে হবে।”
ফোরামের সদস্য ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান বলেন, “মহিপুর একটি সাধারণ মৎস্য বন্দর। সেখানে মৎস্য ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো বড় অবকাঠামো বা নাগরিক সুবিধা নেই। প্রশাসনিক দূরদর্শিতার অভাব এবং ষড়যন্ত্রের কারণে কুয়াকাটার অধিকার হরণ করার চেষ্টা চলছে।”
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই কুয়াকাটাকে পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আজ মহিপুর কিংবা পুরো কলাপাড়ার মানুষ দেশের বাইরে গেলে নিজেদের বাড়ি কুয়াকাটা বলে পরিচয় দেয়। সারা বিশ্ব কুয়াকাটাকে চেনে। অথচ এই ব্র্যান্ডকে ধ্বংস করতে একটি মহল নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। উপজেলা হওয়ার মতো সব অবকাঠামো কুয়াকাটায় প্রস্তুত আছে।”
কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে ১০ হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। যদি অনতিবিলম্বে কুয়াকাটাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা না করা হয়, তবে উপকূলের সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধসহ আরও কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণস্বাক্ষর কর্মসূচির প্রথম দিনেই হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভিড় কুয়াকাটাবাসীর এই দাবির তীব্রতা ফুটিয়ে তুলেছে।
ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।


