বিশ্বাষ শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় সারা দেশের ন্যায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ মেগা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত এই বিশেষ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ কাউছার হামিদ।
আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কচ্ছপখালী ‘মিয়াওকি ফরেস্ট’ বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কলাপাড়া উপজেলাব্যাপী এই সবুজ বিপ্লবের সূচনা করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমি সুপারভাইজার মোঃ মনিরুজ্জামান, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন ঘরামী।
এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— কুয়াকাটা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজন আহমেদ, হিসাব নিরীক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন গাজী এবং নিম্নমান সহকারী জয়দেব গয়ালীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সম্প্রতি মালুমঘাটে কেন্দ্রীয়ভাবে এই মেগা কর্মসূচির উদ্বোধন করে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় তাঁর আরেকটি বড় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় কুয়াকাটা পৌরসভাসহ সমগ্র কলাপাড়া উপজেলা জুড়ে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কলাপাড়ায় প্রথম ধাপে ২ হাজার ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর বাইরে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতাদের বিশেষ সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও সম্মানী প্রদান কর্মসূচিও দেশব্যাপী চালু করা হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আগামী ৫ বছর ধরে দেশব্যাপী এই সমন্বিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদারকি করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে সাধারণ জনগণকে বাড়ির আশপাশে ও খালি জায়গায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

