বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে:
পটুয়াখালীর বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অন্যতম আকর্ষণীয় ‘লেম্বুরবন’ (লেম্বুরচর) স্পট থেকে আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে মহিবুল্লাহ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) এই সাজা ও দণ্ড কার্যকর করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল থেকেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালী স্কেভেটর (মাটি কাটার ভেকু) মেশিন লাগিয়ে সৈকতের অত্যন্ত সংবেদনশীল লেম্বুরচর স্পট থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। উত্তোলিত সেই বালু আবার ড্রাম ট্রাকযোগে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বালু কাটার ছবি ও ভিডিও স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী নাগরিকরা মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পাওয়া মাত্রই দুপুরের দিকে কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন এলাকায় পুলিশসহ আকস্মিক হানা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক। এ সময় হাতেনাতে বালু কাটার অপরাধে মহিবুল্লাহকে আটক করা হয়।
অভিযান ও রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেকের জানান, “সৈকত ও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনোভাবেই বালু বা মাটি কাটা যাবে না। কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন স্পট থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ এবং ১৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।” দণ্ডপ্রাপ্ত মহিবুল্লাহকে কড়া পুলিশি পাহারায় আজ বিকেলেই পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভাঙন প্রতিরোধে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর ও আপসহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পৌর প্রশাসন হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। ছবি পাঠিয়েছেন বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

