স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বরগুনার পাথরঘাটা পৌর এলাকায় রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে পড়া মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক পেশাদার রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পিচঢালা রাস্তার পাশ থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিজানুর রহমান পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত সফেজ উদ্দিনের ছেলে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে মিজানুর রহমান প্রতিদিনের মতো তাঁর উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম রিকশাটি বাসার সামনে চার্জে বসিয়ে দেন। এরপর রাত ১১টার দিকে ঘরে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে গভীর রাতের কোনো এক প্রহরে ঘাতক চক্রের ডাকে বা অন্য কোনো উপায়ে তিনি ঘর থেকে বাইরে বের হন, যা পরিবারের কোনো সদস্যই টের পাননি।
আজ শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পর তাঁরা দ্রুত পরিবার ও পাথরঘাটা থানা পুলিশকে খবর দেন।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রাতে আমরা সবাই একসাথেই ঘুমাতে গিয়েছিলাম। সকালে মানুষের মুখে শুনলাম আমার স্বামীর রক্তাক্ত লাশ রাস্তায় পড়ে আছে। তিনি কখন বাইরে গেলেন আমরা কিছুই টের পাইনি।”
এদিকে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহতের বড় ভাই শাহজাহান মিয়া প্রতিবেশী একটি চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের পৈতৃক জমিজমা নিয়ে তীব্র বিরোধ ও বৈরিতা চলে আসছিল। এর আগে প্রতিপক্ষ চক্রটি নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়ে তাঁদের পুরো পরিবারকে একটি বড় মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এই সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। শাহজাহান মিয়ার দাবি, আদালতে সুবিধা করতে না পেরে এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরেই মিজানুর রহমানকে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুরপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরী এবং পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এনাম। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরগুনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনাম জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করেছি। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের মোটিভ উদ্ঘাটনে পুলিশ ও পিবিআই-এর বিশেষ টিম যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা না গেলেও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”ছবি সংগৃহীত।

