জাকির হোসাইন (তুষার), মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
গ্রামীণ কৃষির টেকসই উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পুষ্টি, উদ্যোক্তা ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ” শীর্ষক পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬।
আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে পার্টনার প্রকল্পের বিভিন্ন সফল কার্যক্রম, কৃষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চমূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন এবং গ্রামীণ যুব ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে এই প্রকল্পের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন— মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট খান রোকন উজ্জামান, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ (অব.) মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম. এম. রইস উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এজন্য বর্তমান সরকার কৃষি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ভর্তুকি প্রদান করছে। বিগত সরকার দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, আমরা সেই ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে দিনরাত কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নয়—আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে দুর্নীতি ও মাদক নির্মূল করতে হবে। সমাজের অর্ধেক অংশ নারী, তাই মেয়েদের সহযোগিতা ছাড়া সভ্যতার অগ্রগতি কখনো সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলেই শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা ও প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের সম্পৃক্ত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
অনুষ্ঠানে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সফল চাষি ও নারী উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় তাঁদের অর্জিত মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ, সার এবং নগদ অর্থের চেক বিতরণ করেন। একই সাথে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলার ১০০ জন দুগ্ধ খামারির ভাগ্য উন্নয়নে মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
কংগ্রেস শেষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রান্তিক কৃষকেরা এই আয়োজনকে অত্যন্ত সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে সরকারের এই কৃষিবান্ধব নীতিকে স্বাগত জানান।ছবি সংগৃহীত।

