স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান (প্রথম পত্র) বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার চলমান বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্রের ভুল অংশে যেসকল পরীক্ষার্থী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে বা করেনি, তারা সবাই ওই ভুল প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) পাবে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দ্রুত ও ইতিবাচক পদক্ষেপে লাখো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যকার দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল।
জানা গেছে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল (Creative) অংশের ৬ এবং ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও অভিযোগ ওঠে। প্রশ্ন দুটির উদ্দীপক ও গাণিতিক গঠনে চাক্ষুষ ভুল এবং অসংগতি থাকায় পরীক্ষার হলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নজরে আসে।
আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, “চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে কিছু কারিগরি ও মুদ্রণজনিত ভুল থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরীক্ষা ও প্রশ্ন প্রণয়নের সাথে জড়িতদের ভুলের কারণে কোনো অবস্থাতেই আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। আমি এই সংসদকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, পদার্থবিজ্ঞানের ওই ভুল দুটি প্রশ্নে সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের খাতা মূল্যায়নকারী (পরীক্ষক) এবং শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বার্তা দিতে তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। কোনো শিক্ষার্থী যেন এই জটিলতার কারণে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, খাতা মূল্যায়নের সময় পদার্থবিজ্ঞানের সৃজনশীল অংশের ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর যেন শতভাগ বা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদান করা হয়।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক মহল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দ্রুত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, বন্যা ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে চলমান এই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ভুল নিয়ে শিক্ষার্থীরা যে বাড়তি মানসিক চাপে পড়েছিল, এই স্বস্তিদায়ক ঘোষণার পর তাদের সেই উদ্বেগ অনেকটাই কেটে যাবে এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে তারা পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

