স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
আগামী বাজেটে মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স (শুল্ক) বাড়ানোর কারণে বিরোধী দলের তা পছন্দ হয়নি এবং তারা চরম নাখোশ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল আবাদযোগ্য জমিকে চাষের আওতায় এনে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।”
আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এসে এই খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। আজ দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বাবার সেই স্মৃতি ও উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি খালের পাড়ে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর (অব.) আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি আমজনতার দল এবং আমরা সাধারণ মানুষের টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী। দেশের প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও মেহনতি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।” তিনি এ সময় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কক্সবাজারের অন্যতম দুঃখ হচ্ছে বাঁকখালী নদী। এই নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙন দুই কূলের মানুষকে বছরের পর বছর ভোগায় এবং কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ভাসিয়ে নেয়।” তিনি বাঁকখালী নদীর দুই কূলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিক আদেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান।
এমপি কাজল আরও উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের অনেক মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু এবং ভূমিহীন, যারা বর্তমানে পাহাড়ের চূড়ায় বা পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের উচ্ছেদের আগে যেন অবশ্যই খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঐতিহাসিক এই উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন— সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুই যুগ পর কাছ থেকে দেখতে কক্সবাজারজুড়ে অভাবনীয় উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পিএমখালীর পাতলী খালের দুই পাড় পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মী ছাতা মাথায় দিয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে অধীর আগ্রহে ভিড় জমান।ছবি সংগৃহীত।


