স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় গভীর রাতে নিজের শয়নকক্ষের ভেতর রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। আলাদা ঘরে ঘুমানোর মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় স্ত্রীর ঘর থেকে আসা গোঙানির শব্দ শুনে দরজা খুলতেই মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বামী।
বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকার এক হিন্দু পরিবারে এই লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহত রীতা রানী মজুমদার ওই এলাকার বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা পড়াশোনার কারণে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নিয়মিত বসবাস করতেন।
নিহতের শোকার্ত ও আতঙ্কিত স্বামী বিধান চন্দ্র রায় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রীতা রানী একসাথে রাতের খাবার শেষ করেন। এরপর প্রতিদিনের মতো তাঁরা দুজনে বাড়ির আলাদা দুটি শয়নকক্ষে ঘুমাতে চলে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ নিজের ঘরের দরজায় বিকট শব্দে ধাক্কা লাগার আওয়াজে বিধান চন্দ্রের ঘুম ভেঙে যায়।
তিনি বিছানা থেকে উঠে বসা মাত্রই পাশের ঘর থেকে তাঁর স্ত্রী রীতা রানীর গোঙানির এক অস্বাভাবিক ও গোঙানো শব্দ শুনতে পান। কোনো অঘটন ঘটেছে ভেবে তিনি দ্রুত নিজের ঘরের দরজা খুলে স্ত্রীর ঘরে ছুটে যান। শয়নকক্ষে প্রবেশ করতেই লাইটের আলোয় মেঝেতে স্ত্রীর গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। বিধান চন্দ্রের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই তিনি দেখতে পান বাড়ির সদর (প্রধান) দরজাটি হাট করে খোলা রয়েছে। খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ওই পথেই চম্পট দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে গাবতলী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি চৌকস দল রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হত্যাকাণ্ডের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এই রোমহর্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) হুমায়ুন কবীর বলেন, “মাঝরাতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রীতা রানীর রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করি। নিহতের গলাকাটা অবস্থায় শয়নকক্ষের মেঝেতেই পড়ে ছিল। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচন করতে এবং এর সাথে জড়িত ঘাতকদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম অলরেডি চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।”ছবি সংগৃহীত।


