মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশীয় মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ ও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে এক বিশাল ও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা টাস্কফোর্স। অভিযানে আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকা বাজারমূল্যের বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কারেন্ট জাল এবং সর্বনাশা চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই অসাধু জাল ব্যবসায়ীকে নগদ ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে জব্দকৃত সমস্ত জাল সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ছাই করে দেওয়া হয়। আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালের দিকে কালীগঞ্জ শহরের মেইন বড় মাছ বাজারে এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা টাস্কফোর্সের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলামিনের নেতৃত্বে আজ সকালে কালীগঞ্জ বড় মাছ বাজারে একটি শক্তিশালী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা টাস্কফোর্স, উপজেলা মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও র্যাবের একটি চৌকস দল যৌথভাবে অংশ নেয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাত অভিযানের বিবরণ দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাজারের দুটি বড় জালের আড়তে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৩৩ কেজি কারেন্ট জাল এবং ১২টি সর্বনাশা চায়না দুয়ারী জাল হাতেনাতে জব্দ করা হয়। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই নিষিদ্ধ জাল বিক্রির দায়ে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ী ইয়ানুর রহমান ও আল আমিনকে মোট ১২ হাজার টাকা নগদ আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
আদালতের কার্যক্রম শেষে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পরিবেশের ক্ষতি না করে সকলের সামনে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জালগুলো পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্স ও মৎস্য কর্মকর্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ এবং রেণু পোনা রক্ষার্থে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। দেশের মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও কঠোর আইনি তৎপরতা আগামী দিনগুলোতেও কালীগঞ্জ জুড়ে অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

