মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পানের বরজের ভেতর অভিনব কায়দায় নিষিদ্ধ মাদক চাষের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। পানের বরজে সুকৌশলে চাষ করা প্রায় ১৫ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির কয়েকটি জীবন্ত গাঁজার গাছসহ সিরাজুল ইসলাম নামে এক মাদক চাষিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ফারাশপুর গ্রামে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে ফারাসপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম লোকচক্ষুর আড়ালে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তাঁর পানের বরজকে মাদক চাষের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। পানের লতার আড়ালে তিনি নিষিদ্ধ গাঁজার বীজ বুনে তা বড় করছিলেন, যাতে দূর থেকে কেউ টের না পায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম আজ বিকেলে ফারাশপুর গ্রামে সিরাজুল ইসলামের ওই পান বরজে আকস্মিক হানা দেয়। এ সময় বরজের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে পানের গাছগুলোর মাঝখানে চাষ করা কয়েকটি তরতাজা ও জীবন্ত গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়। উপড়ে ফেলার পর গাছগুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ টাকা ছাড়াবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আইনি ব্যবস্থা ও ওসির বক্তব্য:
অভিযান শেষে গাঁজার গাছগুলো শিকড়সহ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং মাদক চাষের অপরাধে সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “পানের বরজে সাধারণ চাষাবাদের আড়ালে গাঁজা চাষের মতো একটি গুরুতর অপরাধের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ কেজি গাঁজার গাছসহ মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাদক নির্মূলে আমাদের এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে ঝিনাইদহ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।


