মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৮ প্রভাবশালী নেতাকর্মীকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলায় কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজুসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক মেয়র বিজুসহ ৩ জন হেভিওয়েট আসামিকে বর্তমানে এজাহারে পলাতক দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৮ আসামিকে আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে সরাসরি জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর শহরের নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বড় ধরনের গোপন নাশকতামূলক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি ভারী টিম ওই বাড়িতে আকস্মিক এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশ মূল হোতা সাবেক মেয়র বিজুকে হাতেনাতে আটক করার চেষ্টা করলে তাঁর উপস্থিত স্বজন, নারী সদস্য ও উগ্র সমর্থকেরা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং সরকারি কাজে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। ধস্তাধস্তি ও এই হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে ধুরন্ধর সাবেক মেয়র বিজু কৌশলে পেছনের দরজা দিয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেন।
পুলিশকে বাধা দেওয়া এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নাশকতার ছক আঁকার অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে কালীগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এরপর মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত থেকে শুরু করে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও জোনভিত্তিক এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত ও আত্মগোপনে থাকা যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৮ সক্রিয় নেতাকর্মীকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই অভিযানের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাতভর অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ও অঙ্গসংগঠনের ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবেক মেয়র বিজুসহ মামলার পলাতক বাকি ৩ আসামিকে যেকোনো মূল্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য সকল স্থানে রেইড দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এই ঘটনার নেপথ্যে অর্থায়ন ও মদদদাতা অন্য অপরাধীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের এমন আকস্মিক গ্রেফতারে কালীগঞ্জ শহর জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ছবি সংগৃহীত।

