মো: মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
একটি হিন্দু পরিবারের পারিবারিক বিরোধের সালিশকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিয়ার রহমানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবদল নেতার সঙ্গে ভুক্তভোগীর কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে জেলা যুবদল তাঁর বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
গত ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মাশিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আতিয়ার রহমানের এই সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কামার গ্রামের পরিমল কুমারের ছেলে পূর্ণয় সাহা (৩১)-এর সঙ্গে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর গ্রামের জীবন কুমারের মেয়ে প্রেমা রাণী সাহা (২২)-এর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে প্রেমা রাণী বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এ সময় তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কারও সঙ্গে নিয়ে আসেন বলে পূর্ণয়ের দাবি।
পরবর্তীতে স্ত্রীর সাথে এই পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করা এবং তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পূর্ণয় সাহা স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগটি লুফে নিয়ে সদর উপজেলা যুবদলের প্রভাবশালী সদস্য আতিয়ার রহমান সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা করে দেওয়া এবং স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পূর্ণয়ের কাছে সরাসরি ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
দাবিকৃত ওই ৫ লাখ টাকার বিষয়ে আতিয়ার রহমান ও পূর্ণয় সাহার মধ্যে হওয়া একটি মোবাইল ফোনালাপের অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পুরো জেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভুক্তভোগী পূর্ণয় সাহা তাঁর অভিযোগে বলেন, “প্রথমে আমি আতিয়ার রহমানকে চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য ২ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, তিনি সালিশের নামে মূলত আমার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতানোর পাঁয়তারা করছেন। আমি ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে নিয়মিত ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব রনক গণমাধ্যমকে বলেন, “একটি হিন্দু পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সালিশকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা দাবির মতো একটি স্পর্শকাতর অভিযোগ আমাদের সামনে এসেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সেই অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আতিয়ার রহমানকে দল থেকে আজীবনের জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।


