স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চিকিৎসা ও সেবামূলক পবিত্র পেশার আড়ালে এক অসহায় নার্সিং নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ চার বছর ধরে ব্ল্যাক

মেইল ও পৈশাচিক কায়দায় একাধিকবার ধর্ষণ করার মতো চরম স্পর্শকাতর ও জঘন্য নৈতিক স্খলনের মামলায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ মো. মেহেদী হাছানকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল চত্বরে কর্তব্যরত অবস্থায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। কুমিল্লার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জারিকৃত নিয়মিত গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন চাকরি চালিয়ে যাওয়া এই লম্পট কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরটি রবিবার (২৪ মে) ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল প্রাঙ্গণসহ পুরো জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
আদালতের নথিপত্র ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মো. মেহেদী হাছান চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফতেপুর তুলপাই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বিগত সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন এই সুসংগঠিত জঘন্য অপরাধটি ঘটান। বর্তমানে তিনি বদলি সূত্রে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, এই পৈশাচিক লালসার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ও মামলার মূল বাদী হলেন একটি স্বনামধন্য নার্সিং ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
মামলার লিখিত এজাহার ও পিবিআই-এর তদন্তের চূড়ান্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, বিগত ২০২১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ চার বছর ধরে লম্পট মেহেদী হাছান বিয়ের প্রলোভন ও নানামুখী প্রশাসনিক ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই নার্সিং শিক্ষার্থীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও নির্জন বাসায় অবরুদ্ধ করে একাধিকবার পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে নিবিড় চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে আদালতের নির্দেশে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ ও ডিল রেইড তদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা শাখা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে কঠোর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
সফল এই আভিযানিক অ্যাকশনের বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আসামি মেহেদী হাছান দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চাতুরতার সাথে আদালতের চোখ ফাঁকি দিয়ে চাঁদপুরে এসে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছিলেন। গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে আকস্মিক ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ডিউটি করা অবস্থাতেই তাঁকে হাতেনাতে অবরুদ্ধ করা হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ ঘটনার আইনগত অগ্রগতির বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্ষণ মামলার ওই আসামির বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালত থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত ওয়ারেন্ট আমাদের থানা দপ্তরে এসেছিল। সেই আইনি নির্দেশনার আলোকেই আসামিকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিকিৎসার মতো নোবেল পেশার আড়ালে নারীদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” আজ দুপুরের পর সমস্ত দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মেহেদী হাছানকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ বিচারক তাঁর জামিন আবেদন কঠোরভাবে নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত


