স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় একটি বিশেষ সন্ত্রাসী ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ চারজন সক্রিয় অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই সফল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার লুৎফরের ছেলে রাব্বি (২৫), সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকার খোকন কমিশনারের কালভার্ট সংলগ্ন বাসিন্দা মৃত আব্দুল আজিজ খানের ছেলে মোঃ আল-আমিন খান (২৪), বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানার ট্যাংরাখালী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বর্তমানে সোনাডাঙ্গার পারহাউজ মোড়ের ভাড়াটিয়া মোঃ সেকেন্দার খানের ছেলে মোঃ রানা খান (২৭) এবং সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এতিমখানার মোড় এলাকার মিজান ভিলার বাসিন্দা ফেলু শিকদারের ছেলে মোঃ স্বপন (২৪)। কেএমপি ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১ নম্বর আসামি রাব্বি খুলনার কুখ্যাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক ধারায় মামলা রুজু রয়েছে।
কেএমপি ডিবি পুলিশ সূত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মহানগরীর সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানা এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করে। আভিযানিক দল অপরাধীদের আস্তানা ঘেরাও করে এই চারজনকে অবরুদ্ধ করে এবং পরবর্তীতে তাঁদের দেহ ও ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সাথে জড়িত থাকার কথা ডিবির কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন। গ্রেফতারকৃত এই চারজন কুখ্যাত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ফৌজদারি আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্তভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, খুলনা মহানগরীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় কেএমপি ডিবির এই ধরণের সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধ দমনের চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অবিরামভাবে অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


