মামী-ভাগনিকে গণধর্ষণ !

মামী-ভাগনিকে গণধর্ষণ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে মামী ও ভাগনিকে নৃশংসভাবে দলবদ্ধ বা গণধর্ষণের এক চরম পৈশাচিক ও লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) রাতে দেবীগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ভাগ্নীর বাবা। ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মামী ও ভাগনিকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা ও আইনি পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘরের বেড়া কেটে দুই নারীর ওপর এমন পাশবিক ও বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাতে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন ভুক্তভোগী ওই মামী ও ভাগনি। অনুষ্ঠান শেষ করে গভীর রাতে তাঁরা দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে বাড়িতে এসে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখে তাঁরা নিরুপায় হয়ে ভাগ্নীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়ে তাঁদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী পারভেজ নামের এক যুবক বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান বন্দোবস্ত করে দেওয়ার কথা বলে রাসেল ও বিশ্বজিৎসহ স্থানীয় ছয়জন তরুণকে সেখানে ডেকে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে গভীর রাতে পারভেজ, রাসেল ও বিশ্বজিৎসহ ওই যুবকেরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে জোড়পূর্বক প্রবেশ করে এবং ঘরের ভেতরেই ভাগনিকে জোরপূর্বক উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। একই সময়ে ঘরের বাইরে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও চারজন যুবক মামীকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

লোমহর্ষক এই ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ১ জুন তারিখে মামী ও ভাগনি উভয়েরই শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মানবিক সহযোগিতায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গণধর্ষণের শিকার দুই নারী গত ১ জুন রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির পর তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট আলামত (মেডিকেল টেস্টের জন্য) সংগ্রহ করা হয়েছে।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি পারভেজ, রাসেল ও বিশ্বজিৎসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক খুনি-ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে জেলা ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *