বদলির আদেশ তোয়াক্কা না করে ডিবিতেই বহাল ৩ পুলিশ সদস্য!

বদলির আদেশ তোয়াক্কা না করে ডিবিতেই বহাল ৩ পুলিশ সদস্য!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

আইনের শাসন যেখানে সাধারণ মানুষের ভরসা, সেখানে আইনের রক্ষকদের নিজেদের অন্দরেই যখন নিয়ম ভাঙার খেলা চলে, তখন তা গল্পকেও হার মানায়। যশোর জেলা পুলিশের অন্দরে ঠিক তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ হচ্ছে, যেখানে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ভঙ্গের এক অদ্ভুত নজির তৈরি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের একটি দাপ্তরিক আদেশকে ঘিরে। যশোরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তার টেবিলে। সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে জেলা পুলিশ সুপার অত্যন্ত কঠোর ও নীতিগত অবস্থান নেন। তিনি জনস্বার্থে এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিতর্কিত ৩ সদস্যকে একযোগে বদলির আদেশ জারি করেন।

নথি অনুযায়ী, এএসআই মো: শামসুজ্জামানকে ডিবি থেকে দামুখালী পুলিশ ক্যাম্পে, কনস্টেবল মো: আবদার রহমানকে রায়পুর পুলিশ ক্যাম্পে এবং কনস্টেবল খন্দকার আব্দুল কাদেরকে চিংড়াবাজার পুলিশ ক্যাম্পে বদলি করা হয়েছিল। পুলিশের দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশ সুপারের এমন আদেশের পরপরই ওই কর্মকর্তাদের ডিবি থেকে রিলিজ বা ছাড়পত্র নিয়ে দ্রুত তাঁদের নতুন গ্রামীণ ক্যাম্পগুলোতে যোগদান করার কথা ছিল। কিন্তু নিয়মের সেই চেনা পথ মাড়াননি এই তিন কর্মকর্তা। আদেশের পর দীর্ঘ ১০টি দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কর্মস্থলের পথ ধরেননি তাঁরা। উল্টো কোনো এক অজ্ঞাত এবং অদৃশ্য শক্তিশালী খুঁটির জোরে তাঁরা এখনো ডিবির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার্যালয়েই বহাল তবিয়তে নিয়মিত ডিউটি করে যাচ্ছেন এবং আগের মতোই চেনা দাপট বজায় রেখেছেন।

সরকারি আদেশ এভাবে ফাইলবন্দি হয়ে থাকা এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের রিলিজ না দিয়ে ডিবিতেই রেখে দেওয়ার এই রহস্যের জট খুলতে যোগাযোগ করা হয়েছিল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন কুমারের সাথে। তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন লিখে বক্তব্য চাওয়া হলে আধুনিক প্রযুক্তির পর্দায় দেখা যায় মেসেজটি তিনি ‘সিন’ বা পাঠ করেছেন। তবে মেসেজটি দেখার পরও ডিবির ওসির তরফ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি। কিন্তু আজ ২৩/০৬/২৬ইং সকাল ১১টার সময় মুঠোফোনে ডিবির সেকেন্ড অফিসার বাবলা দাসের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তারা এখনো ডিবিতে রয়েছেন। ওসির এই গভীর ও রহস্যময় নীরবতা যেন পুরো ঘটনাটিকে আরও বেশি ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন— এই নীরবতা কি কেবলই এড়িয়ে যাওয়া, নাকি অপরাধকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো অলিখিত অধ্যায়? এসপির নির্দেশকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডিবির চেয়ার আঁকড়ে থাকার এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি নিয়ে এখন পুরো জেলা পুলিশ জুড়েই চলছে তীব্র কানাঘুষা আর গুঞ্জন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *