নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নে পাঁচ বছর বয়সী এক অবুঝ কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর পাচুড়িয়াপাড়া গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু জান্নাতুল ওই গ্রামের বাসিন্দা মফিজুর রহমানের মেয়ে।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার বিকেল থেকে জান্নাতুলকে তার পরিবারের সদস্যরা কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘ সময় ধরে পাড়ার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে, প্রতিবেশি আতিয়ার শিকদারের ছেলে রবিউল শিকদারের বসতঘরের ভেতরে শিশুটিকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ আকবর সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর অনেক আগেই শিশুটির মৃত্যু ঘটেছিল। তাছাড়া শিশুটির শরীরে ও স্পর্শকাতর অঙ্গে মারাত্মক আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
নিহত শিশুর শোকার্ত পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বখাটে যুবক রবিউল শিকদার কৌশলে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু জান্নাতুলকে তার নির্জন ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন (ধর্ষণ) চালানো হয় এবং অপরাধ ধামাচাপা দিতে একপর্যায়ে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতক রবিউল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত ও নৃশংস। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক ঘাতক রবিউল শিকদারকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক আভিযানিক দল (টিম) ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে। অপরাধীকে ধরতে সর্বোচ্চ ও সর্বাত্মক পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


