নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানাধীন পাখিমারা গ্রামে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। নড়াইল জেলা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সিসিআইসি-এর একাধিক চৌকস টিম গত ২ জুলাই থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত টানা ৩ দিন নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ জন সক্রিয় ডাকাত ও লুণ্ঠিত মালামাল কেনা ১ জন স্বর্ণকারসহ সর্বমোট ৬ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে গলানো অবস্থায় লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) নড়াইল জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন গভীর রাত আনুমানিক ২টার দিকে নড়াগাতী থানার পাখিমারা (মধ্যপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা সালাহ উদ্দীন খাঁনের (৫৪) বসতবাড়িতে একদল মুখোশধারী অজ্ঞাতনামা ডাকাত হানা দেয়। ডাকাত দল দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে সালাহ উদ্দীনের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁর ও তাঁর ছোট ছেলে আশিকুর রহমানের (১৯) চোখ-মুখ চেপে ধরে এবং দুই হাত গামছা দিয়ে পিছনে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। পরে হত্যার ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবির ছড়া জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুণ্ঠন করে তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ভুক্তভোগী সালাহ উদ্দীন খাঁন বাদী হয়ে নড়াগাতী থানায় একটি নিয়মিত ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই নড়াইলের পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সরাসরি নেতৃত্বে নড়াগাতী থানা পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ডাকাত চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত চতুর। তারা বিভিন্ন জেলায় অপরাধ করার সময় নিজেদের আসল নাম গোপন রেখে ‘কাটাপ্পা’, ‘দারোগা’, ‘জেকের আলী’ ইত্যাদি অদ্ভুত ছদ্মনাম ব্যবহার করে আসছিল। ধৃত আসামিরা হলো— খুলনার তেরখাদার নদীয়ার চর গ্রামের জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলী (৪৮), নড়াগাতী থানার কলাবাড়ীয়া গ্রামের জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পা (৫৪), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগা (৩৬), কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রামের মফিজ খাঁ (৩৮), খুলনার তেরখাদার নালিয়ারচর গ্রামের দীন ইসলাম মোল্লা এবং চোরাই সোনা কেনার অপরাধে গ্রেফতারকৃত খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি কামারপাড়া গ্রামের স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫)। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রত্যেকেই পাখিমারা গ্রামের ওই বাড়িতে ডাকাতি করার কথা স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাসহ গোটা খুলনা বিভাগের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় চক্রবদ্ধভাবে এই ধরনের ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ডাকাত জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলীর বিরুদ্ধে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় ২টি ডাকাতি ও ৩টি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগার বিরুদ্ধে খুলনা ও গোপালগঞ্জে ৩টি ডাকাতি ও ১টি চুরির মামলা রয়েছে। জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পার বিরুদ্ধে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনায় ৩টি ডাকাতি ও ১টি চুরি এবং মফিজ খাঁর বিরুদ্ধে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় ২টি ডাকাতি ও ১টি চুরির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই দুর্ধর্ষ ও ভয়ংকর ডাকাত দলের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার পর নড়াগাতী ও নড়াইলের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদনসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে নড়াইল জেলা পুলিশ প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।

