নড়াইল প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের পরম আত্মত্যাগ স্মরণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নড়াইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) নড়াইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানামুখী ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
আজ সকাল সাড়ে ৯টায় নড়াইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের মূল কর্মসূচির শুভ সূচনা ঘটে। এ সময় নড়াইল জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জেলা পরিষদ, এনসিপি, বিভিন্ন সরকারি দফতরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সারিবদ্ধভাবে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জাকির হোসেন বিশ্বাস এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম রানাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে একটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা চিরস্মরণীয় অধ্যায়। বীর শহীদদের সেই ত্যাগ ও আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে বৈষম্য, অন্যায় ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের কালো অধ্যায় মুছে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে ঐতিহাসিক জুলাইয়ের সঠিক ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
উক্ত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় নড়াইলের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুলাই শহীদদের স্মরণে বিশেষ আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া শহীদদের আত্মার চিরশান্তি কামনায় দুপুরের পর জেলার সকল কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

