স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাবার বিক্রির দায়ে মিষ্টি ও বেকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বনফুল অ্যান্ড কোং’-এর মণিরামপুর শাখাকে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে যশোরের মণিরামপুর পৌর শহরের উত্তর মাথা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত বনফুলের শোরুমে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা মোতাবেক বনফুলের মণিরামপুর শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হাসান হৃদয়কে (৩০) নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডিত হৃদয় যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা আবুল কাশেমের পুত্র।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা অতিথি আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে ওই শোরুম থেকে দই ক্রয় করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আপ্যায়নের সময় দইয়ের পাত্রটি খোলা হলে তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয় এবং দইয়ের রং বদলে ‘হাসাটে’ বর্ণ ধারণ করে। নষ্ট দইয়ের বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন অফিসের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বনফুলের শোরুমে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে দাবি করে— “ফ্রিজে না রাখার কারণে দই এমন নষ্ট হয়ে গেছে।”
বনফুল কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন দ্রুত ওই শোরুমে সরেজমিনে তদন্তে যান। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য মজুত ও পচা দই বিক্রির সত্যতা হাতেনাতে প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এই জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বেও বনফুলের এই শাখার বিরুদ্ধে সুস্বাদু ও মানসম্মত খাবারের নামে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহের একাধিক অভিযোগ ছিল।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন জনস্বার্থমূলক ও ভেজালবিরোধী অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।ছবি সংগৃহীত।

