‘জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে’

‘জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে’

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততার সাথে কাজ করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে আজ সোমবার (১ জুন, ২০২৬) বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এই কড়া নির্দেশ দেন। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ঝড়-বৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাগুলো এই বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা ‘বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ দ্রুত পুনর্গঠনের বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

জরুরি এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মাঠপর্যায়ের কাজের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি একটি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই জনগণের প্রতি আমাদের সবার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে আপনাদেরও সেই দায়বদ্ধতার জায়গাটি অন্তরে অনুভব করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ঈদের ছুটিতে দেশের যেসকল এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছিল, সেখানে ত্রুটি বিচ্যুতি নিরসনে কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যাশিত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোথায় কি ঘাটতি ছিল—তা দ্রুত চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে এই কমিটির কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা ছিল না। যার ফলে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা বা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হতো না; কিন্তু এখন থেকে জনদুর্ভোগ লাঘবে সবাইকে জবাবদিহি করতেই হবে।

এর আগে আজ সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম কখনো কখনো সমন্বয় করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৬৬ শতাংশই হলো ডিজেল। এই ডিজেলের পেছনেই সরকারকে সবচেয়ে বেশি বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তাই খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যাতে বাড়তি প্রভাব না পড়ে, সেই চিন্তা থেকে এবার ডিজেলের দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

দেশের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধান এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশের শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এলএনজি আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মহাপরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *