দীঘির সিঁড়ি থেকে ৭ বছরের শিশুকে টেনে নিল কুমির!

দীঘির সিঁড়ি থেকে ৭ বছরের শিশুকে টেনে নিল কুমির!

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের বিশ্বখ্যাত ও ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (র.) মাজারের দীঘির ঘাটে এক চরম নির্মম ও বুকভাঙা ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (১ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দীঘির সিঁড়ি থেকে ফাতেমা নামের মাত্র ৭ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে অতর্কিত কামড় দিয়ে পানির গভীরে টেনে নিয়ে গেছে একটি হিংস্র কুমির। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকে পুরো মাজার এলাকায় এক স্তব্ধতা ও কান্নার রোল পড়ে গেছে। নিখোঁজ শিশু ফাতেমা মাজার প্রাঙ্গণেই আশ্রয় নেওয়া ও বসবাসকারী এক অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। মায়ের সাথেই পরম আদরে মাজার এলাকায় রাত-দিন কেটে যেত অবুঝ শিশুটির, কিন্তু রাতের একটা অন্ধকার মুহূর্ত সব ওলটপালট করে দিল।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের খাদেমদের সূত্রে জানা গেছে, আজ রাতে মাজারের দীঘির প্রধান ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে শিশু ফাতেমা যখন পানিতে গোসল করার জন্য নামছিল, ঠিক তখনই অন্ধকার জল ঠেলে বিশালাকার একটি কুমির ভেসে ওঠে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটিকে কামড়ে ধরে। কুমিরটি তাকে নিয়ে পানির গভীরে তলিয়ে যেতে শুরু করলে ফাতেমা প্রাণভয়ে চিৎকার করে ওঠে। তার সেই করুণ আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে মাজারে অবস্থানরত স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও খাদেমরা মুহূর্তের মধ্যে ঘাটে ছুটে আসেন। শিশুটিকে বাঁচাতে স্থানীয়রা দ্রুত কয়েকটি নৌকা নিয়ে দীঘির পানিতে নেমে পড়েন এবং চারিদিকে আপ্রাণ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

খবর পাওয়ার পরপরই বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দক্ষ ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। বর্তমানে স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টর্চলাইট ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে দীঘির বিশাল জলরাশিতে অত্যন্ত নিবিড় ও চিরুনি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে ঘটনার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এবং রাতের অন্ধকার ভেদ করে তল্লাশি চালানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দুর্ভাগা শিশু ফাতেমার কোনো হদিস বা সন্ধান মেলেনি। চোখের সামনে সন্তানকে হারিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে পাগলপ্রায় অবুঝ সেই প্রতিবন্ধী মায়ের আহাজারিতে ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই অলৌকিক ও ঐতিহাসিক দীঘিতে এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা এবং দীঘির ঘাটে গ্রিল বা নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *