আপন দেবরের পৈশাচিকতা! ভাবি ও ভাতিজাকে খুন করে ভাইকে কুপিয়ে জখম

আপন দেবরের পৈশাচিকতা! ভাবি ও ভাতিজাকে খুন করে ভাইকে কুপিয়ে জখম

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে দেড় বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুসন্তানসহ তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার এক বর্বরোচিত ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত গৃহবধূর স্বামীও। গতকাল শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) রাত ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। আপন দেবরের এমন পৈশাচিক ও হিংস্র আচরণে পুরো এলাকায় চরম স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সালাম মোল্লার স্ত্রী গৃহবধূ আমেনা (২৮) এবং তাঁদের দেড় বছর বয়সী অবুঝ ছেলে আসওয়াদ। এই হামলায় গুরুতর জখম ও আহত ব্যক্তি হলেন আমেনার স্বামী সালাম মোল্লা (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে পারিবারিক একটি অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সালাম মোল্লা, তাঁর স্ত্রী আমেনা এবং সালামের আপন ছোট ভাই মো. ইউসুফ মোল্লার (৩৫) মধ্যে হঠাৎ তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সালাম মোল্লা বাড়ি থেকে বের হয়ে তাঁর ব্যবসার দোকানে চলে যান। কিন্তু ছোট ভাই ইউসুফ মোল্লা ক্ষোভে ও উত্তেজনায় অন্ধ হয়ে ঘর থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে তাঁর ভাবি আমেনা ও সাড়ে তিন হাতের ভাতিজা আসওয়াদের ওপর অতর্কিত ও উপর্যুপরি হামলা চালান। ঘাতক দেবরের ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে তাঁরা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের এখানেই শেষ নয়; ঘটনার পর রাতেই নিজের ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে যখন সালাম মোল্লা বাড়ি ফিরছিলেন, তখন পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা ঘাতক ছোট ভাই ইউসুফ তাঁর ওপরও প্রাণঘাতী হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে সালাম মোল্লা গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন। এরপর প্রতিবেশীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর রক্তাক্ত ঘরের ভেতর ও উঠোনে একটি দা এবং হাতুড়ি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জোড়া খুনের এই বীভৎস কাণ্ড ঘটানোর পরপরই অভিযুক্ত ঘাতক ইউসুফ মোল্লা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনতা বা পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অনুযায়ী, পারিবারিক দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই এই মর্মান্তিক ও নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরণের আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই জঘন্যতম ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটিত হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *