স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে গত কয়েক দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, পারিবারিক কলহের জেরে বিষাক্ত তরল পান এবং অসাবধানতাবশত দোলনা থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় এক নারী ও এক কিশোরসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পৃথক এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনার বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ মে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া এলাকায়। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে একটি যাত্রীবাহী মোটরভ্যানে চড়ে বাহাদুরপুর থেকে খাজুরার দিকে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে কাকলি সুলতানা (২৬) নামে এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত কাকলি যশোর সদর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। এর পরের দিন ২৭ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি বাগডাঙ্গা ইটভাটার সামনে মোটরসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি গরুবাহী নসিমনের মধ্যে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মজনুর রহমান (৪৫) ও দুলাল (৪০) নামের দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে আহত মজনুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি পারিবারিক কলহের জেরে টয়লেট পরিষ্কার করার বিষাক্ত তরল (ভিক্সল) পান করে মরিয়ম (২৫) নামে এক গৃহবধূর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ২৯ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তুচ্ছ অভিমান করে তিনি ঘরে থাকা ভিক্সল পান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ৩১ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মরিয়ম যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের মো. ইসলামের স্ত্রী এবং মো. আলী আকবরের মেয়ে।
আজ রোববার (৩১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের আব্দুলপুর বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চার যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন সুরত গাজী (৩০), শফিকুল (২৩), সাব্বির (১৯) ও রাব্বী (১৯)। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক তাঁদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজকের অপর এক করুণ ঘটনায় যশোর সদর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পাগলাদাহ গ্রামের পিয়াস (১৬) নামে এক কিশোরের অকাল মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ মে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে রশির তৈরি দোলনায় দোল খাওয়ার সময় আচমকা নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় সে। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও আজ রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই তার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত পিয়াস পাগলাদাহ গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি।

