৯ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ !

৯ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় আধুনিক সভ্যতার বুকে এক চরম চুনকালি লেপে দিয়ে মাত্র ৯ বছর বয়সী এক অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশুর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই কোমলমতি ছাত্রীটি গ্রামে খাবার কিনতে যাওয়ার পথে একদল পৈশাচিক নরপশুর চরম ও বর্বরোচিত লালসার শিকার হয়। গত রবিবার (২৪ মে) বিকালের দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার বড়চর গ্রামে এই হাড়হিম করা ও পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবনের ওপর এমন পৈশাচিক ও কাপুরুষোচিত হামলায় পুরো বড়চর গ্রাম জুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও কলোনীবাসীদের মাঝে অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় মাঠপর্যায়ের সূত্র এবং ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া সুনির্দিষ্ট বিবরণী থেকে জানা গেছে, বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হওয়া ৯ বছর বয়সী ওই শিশুটি বড়চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির একজন নিয়মিত ও মেধাবী ছাত্রী। ঘটনার দিন রবিবার বিকালে শিশুটি তার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ির পাশের স্থানীয় একটি মুদি দোকানে খাবার কেনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সে গ্রামের নির্জন কাঁচা সড়ক ধরে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একই গ্রামের কনর মিয়ার বখাটে ও লম্পট পুত্র আফরোজ মিয়া (৩৫) এবং তার অজ্ঞাতনামা আরেক সহকর্মী ও সহযোগী সিন্ডিকেটের সদস্যরা শিশুটির ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনি সদৃশ লম্পটরা শিশুটির মুখ সুতি গামছা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলে, যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপর তাকে জোরপূর্বক রাস্তার পাশের একটি গভীর ও অন্ধকার বাঁশঝাড়ের নির্জন স্থানে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে একে একে পালাক্রমে ও বর্বরোচিত কায়দায় ধর্ষণ করে।

পৈশাচিক এই নির্যাতনের একপর্যায়ে গামছা আলগা হয়ে গেলে শিশুটির গোঙানি ও আকুল চিৎকার শুনে আশেপাশের জমি ও বাড়ি থেকে স্থানীয় সচেতন সাধারণ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ধাওয়া করেন। এলাকাবাসীর উপচেপড়া তোপ ও অবরুদ্ধ হওয়ার ভীতি টের পেয়ে ধর্ষক আফরোজ মিয়া ও তার কুখ্যাত সহযোগী রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে জঙ্গল দিয়ে সুকৌশলে গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে গ্রামবাসীরা অত্যন্ত জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় অবুঝ শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত তার মায়ের কাছে নিয়ে আসেন। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিশুটির দিনমজুর বাবা বাড়িতে না থাকায় এবং পারিপার্শ্বিক ট্রমার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার (২৫ মে) দুপুরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ভুক্তভোগী শিশুকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তার অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার করেন।

নিপীড়িত শিশুটির মা অশ্রুসিক্ত চোখে ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাংবাদিকদের কাছে এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র বিচার দাবি করে বলেন, “আমার ছোট মেয়েটা দোকানে যাচ্ছিল খাবার কিনতে। আফরোজ আর তার সাঙ্গোপাঙ্গরা আমার বাচ্চার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে জানোয়ারের মতো অত্যাচার করেছে। আমি এই নরপশুদের প্রকাশ্য আদালতে ফাঁসি চাই।”

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া ঘটনার আইনগত অগ্রগতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট ভাষায় নিশ্চিত করেছেন যে, শিশু ধর্ষণের এই স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত ঘটনাটি জানার পর থেকেই পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছে। যদিও এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, কারণ পরিবারটি বর্তমানে শিশুর জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছে। তবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে ও আভিযানিক দল নিয়ে বড়চর গ্রামের ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেছে এবং অপরাধের প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছে। ওসি মো. মোনায়েম মিয়া কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতনের এই জঘন্য অপরাধে জড়িত প্রধান আসামি আফরোজ মিয়া ও তার সহযোগীদের অনতিবিলম্বে অবরুদ্ধ করে লোহার খাঁচায় পোরা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ডিবির সাইবার উইংয়ের সহায়তায় সম্ভাব্য সকল ডেরায় পুলিশের বিশেষ চিরুনি তল্লাশি ও জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বলবৎ রয়েছে।

সংগৃহীত প্রতীকী ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *