স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাংলা সাহিত্যের আকাশ সংস্কৃতির অবিসংবাদিত কান্ডারি, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাতিঘর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালা, গভীর ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক জলসার সফল সমাপ্তি ঘটেছে। জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গার ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে এই উৎসবের বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান, এমপি। মে মাসের এই বিশেষ সাহিত্যলগ্নে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানে কবির সাহিত্য, দর্শন ও অমোঘ মানবতার বার্তা নতুন প্রজন্মের তরুণদের মনস্তত্ত্বে ও মননে ছড়িয়ে দেওয়ার এক দৃঢ় ও ঐতিহাসিক প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
দাপ্তরিক ও আভিযানিক সূচি অনুযায়ী, তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে সোমবার ২৫ মে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান, এমপি মহোদয় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত, সশস্ত্র ও চৌকস দল মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী সুনিপুণ ‘গার্ড অব অনার’ ও সালাম প্রদর্শন করেন। সার্কিট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় সরাসরি কার্পাসডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পরবর্তীতে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে আইনমন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান কার্পাসডাঙ্গার ঐতিহাসিক আটচালা ঘরের পাশে নবনির্মিত ও স্থাপিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুদৃশ্য প্রতিকৃতিতে (ভাস্কর্য) গভীর শ্রদ্ধাভরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতীয় কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে এক বিশেষ ও আবেগঘন মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় মূল উৎসব মঞ্চে আরোহণ করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে দীর্ঘ আলোচনা সভা ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত অত্যন্ত মনোজ্ঞ ও জাঁকজমকপূর্ণ নজরুল সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মনোজ্ঞ ও এই ঐতিহাসিক সমাপনী সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলংকৃত করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার সুপরিচিত ও দক্ষ পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এবং চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ শাহজাহান আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন, জেলা বিচার বিভাগ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কলোনীবাসী, দেশের মূলধারার মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যের শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কবি নজরুল যে সাম্য, বিদ্রোহ ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছেন, তাঁর সেই কালজয়ী দর্শনকে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে চুয়াডাঙ্গার এই ঐতিহাসিক আটচালা ঘরকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তর করার দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্তভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে। নতুন প্রজন্ম যাতে মাদকের ভয়াল থাবা ও অপরাধের জগত থেকে দূরে থেকে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হতে পারে, তার জন্য জেলা জুড়ে সাহিত্য চর্চা কঠোরভাবে বলবৎ রাখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। [ছবি সংগৃহীত]


