৫ খুনের ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কান্না : শিশুদের লাশে স্তব্ধ প্রশাসন

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার নৃশংস ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ওই পৈশাচিক দৃশ্য দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিশুদের নিথর দেহ দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বাচ্চাগুলোকে দেখে খুব কষ্ট লাগছে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমি আগে কখনো দেখিনি।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ না করলেও পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে খুনিদের শনাক্তে কাজ করছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঘাতক ফুরকান মিয়া শনিবার ভোরে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে, তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে শিউরে ওঠা দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশু কন্যা মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়ার (২) গলাকাটা মরদেহ সারিবদ্ধভাবে পড়ে ছিল। স্ত্রী শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনাস্থলে দেশীয় মদের বোতল ও খাবারের পাশাপাশি কিছু মুদ্রিত কাগজ পাওয়া গেছে। ওই কাগজ থেকে জানা যায়, ঘাতক ফুরকান ইতিপূর্বে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধারকৃত কাগজপত্র ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক থাকলেও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। এই নৃশংস ঘটনায় পুরো কাপাসিয়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *