স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন দুর্যোগময় মুহূর্তে পানিবন্দী ও চরম সংকটে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর পাশে অত্যন্ত মানবিকতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া এবং রামু উপজেলার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত এলাকায় পানিবন্দী হাজারো পরিবারের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে সৌজন্য উপহার সামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছে এলিট ফোর্সটির সদস্যরা।
গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) বিকেল থেকে শুরু করে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনভর জেলার বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকাগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোট ও বিশেষ উদ্ধারকারী নৌকার মাধ্যমে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চাক্ষুষভাবে পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা অতিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও রামু উপজেলার নদীগুলোর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। শত শত ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রান্নার জায়গা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়া দুর্গত মানুষদের মাঝে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেয়।
এমন সংকটকালীন পরিস্থিতিতে পানিবন্দী মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে ও তাঁদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বিশেষ আভিযানিক তৎপরতা শুরু করে র্যাব-১৫। বাহিনীর সদস্যরা বন্যাকবলিত দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে পানি ভেঙে পৌঁছে যান। সেখানে পানিবন্দী অসহায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও যুবকদের হাতে পরম যত্নে তুলে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, চিঁড়ে, গুড়, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধসহ বিশেষ উপহার সামগ্রী।
ত্রাণ বিতরণকালে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাথে কথা বলেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস দেন। হঠাৎ বুক সমান পানির মাঝে কড়া নাড়া র্যাব সদস্যদের এমন মানবিক উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপদ্রুত এলাকার বন্যার্ত মানুষরা।
এ বিষয়ে র্যাব-১৫-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধ দমনের পাশাপাশি দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড ও এলিট ফোর্স র্যাব সর্বদা প্রথম সারিতে কাজ করে আসছে। কক্সবাজারের এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং দুর্গত মানুষরা পুরোপুরি পুনর্বাসিত না হওয়া পর্যন্ত র্যাব-১৫-এর এই ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চাক্ষুষভাবে চলমান থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


