আগামী বছর থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা

আগামী বছর থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ও পাবলিক পরীক্ষার চিরচেনা সময়সূচিতে এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে এবং উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে করোনাকালীন বিপর্যয় ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওলটপালট হয়ে যাওয়া শিক্ষাবর্ষকে পুনরায় একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলো।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই যুগান্তকারী ও নতুন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত ও মৌখিক জবাব দেওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন।

সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পাবলিক পরীক্ষাগুলোর সময় পেছানোর কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যবান একাডেমিক সময় নষ্ট হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে জানুয়ারি মাসে এসএসসি এবং জুন মাসে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু এবং পাবলিক পরীক্ষার সামগ্রিক সময়সূচির মধ্যে একটি নিখুঁত সামঞ্জস্য আনা সম্ভব হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একাডেমিক সময়ের অপচয় বা সেশনজটের কালো ছায়া পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার শুধু এখানেই থেমে থাকছে না, পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বড় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বন্যা, টানা ভারী বর্ষণ ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতার চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার জেদের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তুমুল আন্দোলনে মেতে উঠেছে। গতকাল সোমবার প্রতিকূল পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যকে অবমূল্যায়ন করার অভিযোগে খোদ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

এমনকি আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে (যার মধ্যে যশোরও অন্তর্ভুক্ত) বিভিন্ন কলেজের শত শত সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান সমাবেশ চাক্ষুষভাবে করেছেন। ঠিক এমনই এক টালমাটাল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে সাধুবাদ জানালেও তারা মনে করছেন, জানুয়ারি ও জুনের এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে বছরের শুরু থেকেই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও সিলেবাস শেষ করার গতি আরও বাড়াতে হবে। একই সাথে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের আবহাওয়াজনিত কোনো সংকট বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, সে বিষয়টিও মাথায় রেখে একটি ব্যাকআপ বা বিকল্প পরিকল্পনা  প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *