স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই পাশবিক নিষ্ঠুরতার পর পুলিশি তৎপরতায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ এলাকা থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নির্যাতনকারী স্বামী ও পেশায় ইটভাটা শ্রমিক চাঁদ আলী খাঁ এবং তাঁর বোন (ননদ) সান্তনা খাতুন। চাঁদ আলী খাঁ ওই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান হবি খাঁর ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত রবিবার (২৪ মে) সকাল ৮টার দিকে এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ওই গৃহবধূর ওপর প্রায়শই মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা চালানো হতো। এর আগে যৌতুক হিসেবে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য স্বামী ও ননদ চাপ সৃষ্টি করলে ভুক্তভোগীর অসহায় বাবা সেই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। কিন্তু সম্প্রতি আবারও নতুন করে টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করে তারা। এতে সাড়া না দেওয়ায় এবং সময়মতো বাবার বাড়ি থেকে নতুন করে টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বামী চাঁদ আলী খাঁ।
ঘটনার দিন সকালে টাকার দাবিতে সে ওই গৃহবধূকে বেদম মারধর করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে বোন সান্তনা খাতুনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে মাটিতে চেপে ধরে একটি চুল কাটার মেশিন এনে জোরপূর্বক তাঁর মাথার সমস্ত চুল কেটে ন্যাড়া করে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখে। পরবর্তীতে কোনো উপায়ে পরিবারের সদস্যরা এই অমানবিক নির্যাতনের খবর পেয়ে ওই গৃহবধূকে অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার করেন এবং ঈশ্বরদী থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ টিম গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান দুই আসামি চাঁদ আলী খাঁ এবং সান্তনা খাতুনকে বাবুলচারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নির্যাতিতা গৃহবধূকে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। ছবি সংগৃহীত।


