আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক কৃষকের নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালে মাঠের ভেতর মেহগনি গাছ থেকে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র রহস্যের দানা বেঁধেছে। আত্মহত্যার নাটক সাজানো হলেও লাশের পিলে চমকানো অবস্থান দেখে ঘটনাটিকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। নিহতের গলায় ফাঁসের রশি থাকলেও পুরো শরীর ছিল মাটিতে ঠেকানো এবং তাঁর নাক দিয়ে তাজা রক্ত ঝরতে দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের এনায়েতপুর-আঠারোখাদা গ্রামের মাঠ থেকে এই সন্দেহভাজন মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার এই বখতিয়ার হোসেন (৩৮) উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নজরুল মালিতার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে কোরবানির ছাগল নিয়ে বখতিয়ার উপজেলার মাজহাট গ্রামে তাঁর বোনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফেরেননি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও রহস্যজনকভাবে বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে এনায়েতপুর-আঠারোখাদা সড়ক দিয়ে এক পথচারী মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের মাঠে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে বখতিয়ারের লাশটি অবাস্তব অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রথম দৃষ্টিতে এটিকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও লাশের অবস্থান মূলত ভিন্ন কথা বলছে। গলায় রশি থাকলেও শরীর বাতাসে ঝুলে ছিল না, বরং মাটিতে নুয়ে ছিল। এর ওপর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামতটি ইঙ্গিত করছে যে, তাঁকে অন্য কোথাও শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যার পর গভীর রাতে লাশটি এখানে এনে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মৃত্যুর ধরনটি অত্যন্ত সন্দেহজনক হওয়ায় প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা পরিষ্কার হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। (ছবি: সংগৃহীত)

