রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে গভীর রাতে খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে চলন্ত যানবাহনের গতিরোধ করে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী, ট্রাকচালক ও তেলের লরিচালকের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নেয় মুখোশধারী ডাকাত দল। ডাকাতদের নৃশংস হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম (৪৬) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর থানার লক্ষ্মীকুন্ডু গ্রামের কুশোগুড়ি মাঠসংলগ্ন নির্জন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে মোটরসাইকেলযোগে কোটচাঁদপুরে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন জহিরুল ইসলাম ও মমিনুর রহমান। তাঁরা লক্ষ্মীকুন্ডু কুশোগুড়ি মাঠসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে, আগে থেকেই অন্ধকারের মধ্যে ওঁৎ পেতে থাকা ৫-৬ জনের একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত রাস্তার ওপর আকস্মিক খেজুর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাদের মোটরবাইকের গতিরোধ করে।
মোটরসাইকেল থামামাত্রই কিছু বুঝে ওঠার আগে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জহিরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। পরে ডাকাতরা জহিরুলের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একই সময় তাঁর সঙ্গী মমিনুর রহমানকে জিম্মি করে তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।
মোটরসাইকেল আরোহীদের ভাগ্য কেড়ে নেওয়ার পরপরই ডাকাত দল ওই সড়কে আসা দুটি মালবাহী ট্রাক ও একটি তেলের লরির গতিরোধ করে। তারা ট্রাকচালক রিয়াদকে বেধড়ক মারধর করে আহত করলেও কড়া প্রতিরোধের মুখে তার কাছ থেকে কিছু নিতে পারেনি। তবে তেলের লরির চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কাছে থাকা তেলের টাকা বাবদ নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতি করার সময় দুষ্কৃতকারীরা নিজেদের মধ্যে একজনকে বারবার ‘মাস্টার’ নামে সম্বোধন করছিল। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ওই ‘মাস্টার’ নামের ব্যক্তিই এই সশস্ত্র ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
এদিকে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের একটি নিয়মিত নৈশ টহল দল ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি আঁচ করতে পারে। পুলিশের গাড়ির সাইরেন ও উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা লুট করা মালামাল ও টাকা নিয়ে দ্রুত অন্ধকারের সুযোগে মাঠের দিকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ব্যস্ততম কোটচাঁদপুর-সাবদারপুর সড়কে গভীর রাতে এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার পর থেকে স্থানীয় চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়েই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডাকাত দলকে শনাক্ত করতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ ‘মাস্টার’ বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশী চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

