স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও স্পর্শকাতর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার জেরে লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী (১৪) ও তাঁর মা (৩৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পেছনে দায়ী অভিযুক্ত যুবক গৌর চন্দ্র রায়কে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা এবং নিহত নারীর স্বামী রিপেন চন্দ্র রায়। তিনি জানান, গত ১৯ জুন তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ফুঁসলিয়ে ঢাকায় নিয়ে যান একই এলাকার যুবক গৌর চন্দ্র রায়। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করা হলে গত ২৬ জুন পুলিশ তাদের দুজনকে উদ্ধার করে স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় ফিরিয়ে দেয়।
রিপেন চন্দ্রের অভিযোগ, বাড়ি ফিরে আসার পর মেয়েটির সাথে আর যোগাযোগ করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে গৌর চন্দ্র রায় তাদের গোপন ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে দেন। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় লোকলজ্জা ও তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে গত ১৫ জুলাই নিজ বাড়িতে একই সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাঁর শ্যালক উজ্জ্বল চন্দ্র রায়সহ কতিপয় স্বজন এটিকে ‘আত্মহত্যা’ না বলে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা তাঁদের পরিবারকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত গৌরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অন্যদিকে, নিহত নারীর ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রিপেন চন্দ্র রায়ের সাথে স্থানীয় এক বিধবা নারীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর বোন ও ভাগনিকে হত্যা করে পরবর্তীতে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
এদিকে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গৌর চন্দ্র রায়। তাঁর দাবি, একটি ভুয়া আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে থাকা ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও কীভাবে বাইরে অন্য কারও হাতে গেল, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা স্পষ্ট হবে। এর পাশাপাশি ভিডিও ছড়ানো, ব্ল্যাকমেইলিং বা আত্মহত্যার পেছনে কোনো প্ররোচনা রয়েছে কি না—সবদিক গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

