রফিক মণ্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মধ্যরাতে সড়কে গাছ ফেলে বাধার সৃষ্টি করে ডাকাত দলের তাণ্ডব ও গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে লুণ্ঠনের ঘটনায় আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, ঝিনাইদহ ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে কোটচাঁদপুর থানাধীন সাফদারপুর-কোটচাঁদপুর সড়কের কুশোকুড়ি মাঠের পাকা রাস্তার ওপর খেজুর গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয় একদল মুখোশধারী ডাকাত। সে সময় পথচারী মোটরসাইকেল আরোহী ও ট্রাক চালকদের গতিরোধ করে তারা নগদ অর্থ ও মোবাইল লুট করে। একপর্যায়ে বাধা দিলে গ্রামীণ ব্যাংকের মুজিবনগর শাখার ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চম্পট দেয় অপরাধীরা।
এই নজিরবিহীন ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান, পিপিএম-এর নির্দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে রহস্য উন্মোচনে নামানো হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ প্রথম অভিযান চালায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় দুর্ধর্ষ ‘সুরত ডাকাত’কে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় লুট হওয়া টাকা ও হ্যান্ডসেট।
পরবর্তীতে সুরতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের মূল সর্দার আলতাফ হোসেন ওরফে ‘আলতাফ ডাকাত’কে। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে এই চক্রের স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও এজেন্ট আরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুরত আলী ও ডাকাত সর্দার আলতাফকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ওই রাতের বর্বরোচিত ডাকাতির ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় এজেন্ট আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যান্য পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


