এক রাতেই তিন গ্রাম থেকে ৮ গরু চুরি : দিশেহারা কৃষক !

এক রাতেই তিন গ্রাম থেকে ৮ গরু চুরি : দিশেহারা কৃষক !

মো. মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে সংঘবদ্ধ খামারি ও কৃষক-নিঃস্বকারী গরু চোরচক্রের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই থামছে না, বরং দিন দিন তা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। গত শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পৃথক তিনটি গ্রাম থেকে একযোগে ৮টি মূল্যবান গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও ১০টি গরু চুরি হয়। একের পর এক এমন সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনায় চরম দিশেহারা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও দুগ্ধ খামারিরা। এই চোর সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে ঝিনাইদহ পৌর এলাকার বলিদাপাড়া গ্রামের প্রান্তিক খামারি রবিউল ইসলামের দুগ্ধ খামারে হানা দেয় চোরেরা। সংঘবদ্ধ চক্রটি খামারের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ছোট একটি বাছুরকে রেখে অবলীলায় ৩টি বড় ও দুগ্ধজাত গাভী নিয়ে চম্পট দেয়।

অশ্রুসিক্ত চোখে খামারি রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার খামারে ছোট একটা বাছুরসহ মোট চারটা গরু ছিল। চোরেরা আমার সবকটা বড় গরুই চুরি করে নিয়ে গেছে। এই গাভীগুলোর দুধ বাজারে বিক্রি করেই আমার পুরো সংসার চলত। এখন আমার আয়ের পথ বন্ধ, আমি এক্কেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।” রবিউলের প্রতিবেশী ও কালীগঞ্জ পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক ফোরকান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রবিউলের চুরির ঘটনায় পরিবারটির সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এলাকায় একটি সুনির্দিষ্ট ও সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় থাকলেও তাদের দমনে পুলিশের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না।”

একই রাতে উপজেলার আগমুন্দিয়া গ্রামে আব্দুল মান্নান ও তাঁর চাচাতো ভাইয়ের গোয়ালঘর থেকে তিনটি এবং পাশের মেকুরখির্দ্দা গ্রামের সুমন মাস্টারের বাড়ি থেকে আরও একটি মূল্যবান গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। এর আগের রাতেও পৌর এলাকার ইশ্বরবা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরেরা একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে আইয়ুব হোসেনের গরুটি তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য স্থানীয় সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সেই চুরির ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে চোরচক্রের কয়েকজনের মুখাবয়ব ও চেহারা অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এর আগে গত ২৭ জুন উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাদঘরা ও আগমুন্দিয়া গ্রাম থেকে এক রাতেই ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছিল।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, এই সংঘবদ্ধ চোরচক্রটি গভীর রাতে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে পিকআপ ও ট্রাক নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে ঢোকে এবং মুহূর্তের মধ্যে গোয়ালঘর ফাঁকা করে গরু নিয়ে দ্রুত অন্য জেলায় পাচার করে দেয়। বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে এই চুরির বিষয়ে অবহিত করা হলেও এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত কোনো প্রতিকার বা চোরাই মাল উদ্ধার হচ্ছে না বলে তাঁরা দাবি করেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “উপজেলায় গরু চুরি রোধে গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের নৈশকালীন টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চোর সন্দেহে আমরা দুইজনকে আটক করেছি এবং দুটি চোরাই ছাগল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এই পুরো সুসংগঠিত গরু চোরচক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে এবং চোরাই গরু উদ্ধারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *