গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

শেরপুর জেলা শহরে এক সাধারণ ও অসহায় গৃহবধূকে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক ধর্ষণের এক অত্যন্ত বর্বরোচিত, জঘন্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা অভিযুক্ত লম্পট যুবককে চারদিক থেকে ঘেরাও করে গণধোলাই দেওয়ার পর রাতভর অবরুদ্ধ করে পুলিশ প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করেছেন। হাতেনাতে আটক হওয়া ওই যুবকের নাম মো. এনামুল মিয়া। তিনি শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রভাবশালী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাত ৯টার দিকে শেরপুর পৌরসভার সজবরখিলা মহল্লায় এই নাটকীয় ও উত্তেজনাকর আটকের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ওই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক ও ফাঁসির দাবিতে রাতেই শেরপুর শহর জুড়ে সর্বস্তরের বিক্ষুব্ধ জনতা ও নারীরা এক বিশাল ও উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এই ঘটনায় আজ রবিবার সকালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় বিশ্বস্ত সামাজিক সূত্র ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী গৃহবধূ তাঁর স্বামীকে নিয়ে শেরপুর পৌরসভার সজবরখিলা মহল্লার একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে শেরপুর পৌরসভার সজবরখিলা মহল্লার বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এনামুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কুৎসিত ও নোংরা কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং নানামুখী উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে এই অনৈতিক বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক ও দুই পরিবারের উপস্থিতিতে এলাকায় একাধিকবার আনুষ্ঠানিক সালিশি বৈঠক বা দরবার অনুষ্ঠিত হয়। দরবারে এনামুলকে কঠোরভাবে শাসন ও সতর্ক করা হয়। কিন্তু এই সামাজিক সালিশের পর থেকেই নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও ইর্ষান্বিত হয়ে ওঠে এনামুল এবং প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

মামলার এজাহার ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে যখন ওই গৃহবধূর স্বামী কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসার বাইরে ছিলেন, ঠিক তখন ফাঁকা বাসার সুযোগ নিয়ে এনামুল মিয়া দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে সে ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী লোকলজ্জার ভয় উপেক্ষা করে পুরো ন্যাক্কারজনক বিষয়টি তাঁর স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বিস্তারিত জানান। এই লোমহর্ষক খবরটি রাতে পুরো সজবরখিলা মহল্লায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে এনামুলের বাড়ি ঘেরাও করেন। রাত ৯টার দিকে তাকে একটি ঘর থেকে অবরুদ্ধ ও গণধোলাই দিয়ে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার আইনগত সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা এনামুলকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে থানায় নেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার সকালে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে এনামুলকে একমাত্র আসামি করে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করেছেন। পুলিশ ভুক্তভোগী গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য তাঁকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করেছে। ধৃত আসামি এনামুলকে এই মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ জনগণ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত ছিল। খবর পাওয়ার পরপরই জেলা পুলিশের একটি চৌকস ও ভারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে দ্রুত উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পেছনে মেসেঞ্জারের পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, নারী নির্যাতনের এই সংবেদনশীল বিষয়টি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *