স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর পৌর শহর ও এর আশেপাশের এলাকায় মাদকের অবৈধ সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলতে এবং বিদেশি মদের অবৈধ বাজারজাতকরণ রুখতে এক সফল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), যশোর জেলা কার্যালয়। আজ রবিবার (২৪ মে) ভোরের আলো ফুটতেই শহরের একটি অন্যতম জনাকীর্ণ এলাকায় এই বিশেষ আভিযানিক সাফল্য আসে। অভিযানে যশোর পৌরসভার ০৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ঘোপ সেন্ট্রাল রোড কবরস্থান পাড়া এলাকার এক মাদক কারবারির শয়নকক্ষে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নামী ও দামি ব্র্যান্ডের সর্বমোট ৮৮ (আটাশি) বোতল আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি মদ হাতেনাতে জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদের ক্যাসেল বা চালানের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে মোঃ ওমর শরীফ রাজা (৪৫) নামে এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছেন ডিএনসির জওয়ানরা। ঈদকে সামনে রেখে চোরাকারবারিদের বড় ধরনের একটি চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেওয়ায় ডিএনসির এই তাৎক্ষণিক ঝটিকা অ্যাকশন সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়ের দাপ্তরিক ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, হাতেনাতে গ্রেপ্তারকৃত এই মাদক কারবারি হলেন—যশোর শহরের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ঘোপ সেন্ট্রাল রোড কবরস্থান পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল লতিফ ও ফাতেমা বেগমের পুত্র মোঃ ওমর শরীফ রাজা (৪৫)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, আজ রবিবার ভোর থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়ের একটি চৌকস ও সশস্ত্র দল পৌর এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী টহলে ছিল। একপর্যায়ে সকালের দিকে একটি নির্ভরযোগ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড কবরস্থান পাড়া এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের একটি বড় চালান বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি যশোর কার্যালয়ের পরিদর্শক জনাব নাজমুল হোসেন খানের সরাসরি নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আভিযানিক টিম সকাল ০৭:০০ ঘটিকার সময় ঘোপ সেন্ট্রাল রোড কবরস্থান পাড়া এলাকাস্থ আসামি মোঃ ওমর শরীফ রাজার নিজস্ব বাড়িটি চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষের সামনে আসামির নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় শয়নকক্ষের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ৮৮ (আটাশি) বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার ও জব্দ করতে সক্ষম হন ডিএনসি সদস্যরা। সফল এই আভিযানিক কার্যক্রমের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জনাব নাজমুল হোসেন খান নিজে বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ধারায় আসামির বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ধৃত ওমর শরীফ রাজা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এই ক্ষতিকর বিদেশি মদের সিন্ডিকেট সচল রেখে আসছিল। আজ দুপুরের পর সমস্ত আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসামিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে এবং চোরাচালানের সমস্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুট গুঁড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ডিএনসির এই বিশেষ চিরুনি তল্লাশি ও জিরো টলারেন্স নীতি আগামী দিনগুলোতেও জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে বলবৎ থাকবে বলে দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

