স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এত বেশি জখম হয়েছে যে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্যালাইন দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও ছিল না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম জাকারিয়া হাসান জিলহান (২১)। তিনি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মৃত হারুনের ছেলে এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে জিলহান বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইমুনসহ একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা জিলহানকে একা পেয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে জিলহান রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিলহানের সাথে থাকা তার চাচা মো. মামুন জানান, “সাইমুন ও তার সহযোগীরা জিলহানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই কুপিয়েছিল। বর্তমানে সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।” এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি আরও জানান, আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় জিলহানের বাবা মারা যান। এখন পরিবারে তার মা ও এক ভাই রয়েছে, যারা এই ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে চরম মুমূর্ষু অবস্থায় জিলহানকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তার পুরো শরীরে কোপের এত বেশি জখম ছিল যে জরুরি অবস্থায় তাকে স্যালাইন দেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তবে এই বিষয়ে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ছবি সংগৃহীত।

