রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা থেকে সাফদারপুর অভিমুখী প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত মহাসড়কটি এখন যেন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন যাবত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো উদ্যোগ না থাকায় রাস্তার দুই পাশ ঘন আগাছা, ঝোপঝাড় এবং বড় বড় ঝোপে ছেয়ে গেছে। ফলে সন্ধ্যা নামার পরই এই পথ দিয়ে যাতায়াতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ডাকাতির আতঙ্কে ভুগছেন স্থানীয় হাজারো পথচারী ও চালক।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড় ও অপ্রয়োজনীয় জঙ্গল এতটাই ঘন আকার ধারণ করেছে যে, বেশ কিছু পয়েন্টে রাস্তার মূল অংশই প্রায় ঢেকে গেছে। কেবল প্রাকৃতিক আগাছই নয়, অনেকে আবার রাস্তার ধারে অবৈধভাবে কলাগাছ সহ নানাবিধ গাছ রোপণ করেছেন। এতে বাঁকগুলোতে মুখোমুখি যানবাহন দেখতে না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, সেই সাথে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, একসময় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নারী শ্রমিকদের মাধ্যমে নিয়মিত রাস্তার পাশের আগাছা ও জঙ্গল কেটে পরিষ্কার রাখা হতো। কিন্তু বছরের পর বছর এই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উপজেলা প্রায় প্রতিটি সংযোগ সড়কই এখন জঙ্গলে ঢেকে গেছে।
লক্ষীকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা খান মোহাম্মদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সড়কটির দু’পাশের জঙ্গল এতই ভয়ংকর রূপ নিয়েছে যে, দিনের আলোতেও যদি কোনো অপরাধী ঝোপের ভেতর ওত পেতে থাকে, তাকে শনাক্ত করা দুঃসাধ্য। আর সন্ধ্যা গড়ালেই তো ডাকাতি ও ছিনতাই নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অবিলম্বে এই জঙ্গল পরিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
জনসাধারণের এই চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার জানান, “আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি। সড়কটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই সড়কের দু’পাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।”
ঝোপঝাড় পরিষ্কার, অবৈধভাবে রোপণ করা গাছপালা উচ্ছেদ এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করে কোটচাঁদপুর–সাফদারপুর সড়কটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে— এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের। ছবি সংগৃহীত।


