রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ থেকে।।১৯ জুলাই -২০২৬
ঝিনাইদহের পাগলাকানাই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সংঘটিত হোটেলকর্মী খুশি খাতুন হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৬৬ দিন পর ক্লু-লেস এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একই সাথে ঘটনার মূল হোতা ও নিহতের কথিত প্রেমিক সাঈদ মেহেদী (২৪)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) ভোরে তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক সহায়তায় ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালী এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করে। শনিবার বিকেলে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেফতারকৃত সাঈদ মেহেদী সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার ঢেপুখালী গ্রামের মোসলেম গাজীর পুত্র।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসেরও বেশি সময় আগে ঝিনাইদহের পাগলাকানাই এলাকায় ভাড়া বাসায় হোটেলকর্মী খুশি খাতুনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই কোনো প্রকার ক্লু না থাকায় আসামীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ঘাতক মেহেদী গ্রেফতার এড়াতে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি মাছের ঘেরে শ্রমিক হিসেবে আত্মগোপন করে ছিল।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম টানা ৬৬ দিন ধরে মামলাটির ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিল। অবশেষে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে আসামির অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার পর, দেবহাটা থানা এলাকার খলিশাখালীতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, খুশি খাতুন হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল, সে বিষয়ে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজই তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ জানতে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। ছবি সংগৃহীত।

