স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আবারও এক ঐতিহাসিক ও দাপুটে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অকুতোভয় বিজিবি জওয়ান ও র্যাবের চৌকস দলের দূরদর্শী ও ক্লান্তিহীন আভিযানিক তৎপরতায় পৃথক ৪টি ঝটিকা অভিযানে প্রায় ৮ কেজি রুপা, বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর ভারতীয় সিরাপ এবং বিদেশী মদসহ চার শীর্ষ চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) চালানো এই বিশাল অভিযানে জব্দকৃত মাদক ও রুপার সর্বমোট সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৪৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৮০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আজ ১৯ জুলাই সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি বিশেষ আভিযানিক টহলদল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীমতলা এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালালে তার ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৭ কেজি ৯৩০ গ্রাম খাঁটি রৌপ্য (রুপা) উদ্ধার করা হয়। একই সাথে তার কাছ থেকে ০১টি মোবাইল এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮,৩৩০ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ওই চোরাকারবারির নাম মোঃ রবিউল ইসলাম (৪০)। সে সাতক্ষীরা জেলার কলরোয়া থানার আলাইপুর উত্তর (হামিদপুর) গ্রামের মোঃ আমজাদ আলীর পুত্র।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ আভিযানিক দল গঠিত হয়। এই যৌথ বাহিনী শার্শা থানার কাশিপুর বিওপির অধীনস্থ গোপীনাথপুর ও টেংরালী বাউন্ডারীপাড়া গ্রামে দুটি পৃথক ব্যাক-টু-ব্যাক চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে ৩ জন কুখ্যাত মাদককারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের আস্তানা থেকে ভারতীয় ৭৭৪ বোতল ‘ESKUF’ সিরাপ এবং ২৬৯ বোতল ‘WINCREX’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
ধৃত আসামিরা হলো— শার্শার বাউন্ডারী গ্রামের মোঃ হোসেন মুন্সীর ছেলে মোঃ আবু বকর (৩৬), গোপীনাথপুর বটতলা গ্রামের মোঃ সানাউল্লাহর ছেলে মোঃ মিনাজ (২৩) এবং একই গ্রামের মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে মোঃ বশির (১৮)।
মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একই দিনে বিজিবির মাসিলা ও পাঁচপীরতলা বিওপির জওয়ানরা আরও দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে ২৫ বোতল দামী বিদেশী মদ এবং ২১৯ বোতল নেশাজাতীয় ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি।
একের পর এক এই সফল অভিযানে অপরাধ মহলে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যশোর সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে ৪৯ বিজিবির বর্তমান কমান্ডিং অফিসার এবং র্যাবের কোম্পানি কমান্ডারের সুনিপুণ ও দূরদর্শী আভিযানিক পরিকল্পনার কারণেই একের পর এক এমন চাঞ্চল্যকর ও সফল অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। দেশ ও সমাজকে মাদকমুক্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই যৌথ আপসহীন মনোভাব ও অতন্দ্র প্রহরা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
বিজিবি জানিয়েছে, মাদকসহ আটককৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে শার্শা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রুপাসহ গ্রেফতারকৃত মূল আসামিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর এবং উদ্ধারকৃত রৌপ্য যশোর জেলা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চোরাচালানের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


